নিজস্ব প্রতিবেদক
লালবাগ থানার আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর সময় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তদন্ত কর্মকর্তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর একই সাথে জামিন নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পুলিশ শিরীন শারমিনকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা শিরীন শারমিন ভয় নাই রাজপথ ছাড়িনাই বলেও স্লোগান দেয়।
এদিন দুপুর তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে রাখা হয় হাজত খানায়। এর আগে সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
আজ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কুশীলব ছিলেন, তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ মামলার পলাতকদের ব্যাপারে এড়িয়ে যায়। তাকে তদন্তের স্বার্থে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে এজন্য ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হোক।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এ মামলায় শিরীন শারমিন ৩ নং আসামি। ২৪ এর আন্দোলন কোটাবিরোধী ছিল। যেখানে হাজার শিক্ষার্থী মারা যায়। শিরীন শারমিন চৌধুরী ফ্যাসিস্টের সহকারী ছিলেন। বিনা ভোটের এমপি ছিলেন। তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। তিনি এজাহারনামীয় আসামি। এ মামলায় কারা জড়িত এবং আন্দোলনে কারা হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত স্বার্থে এসব জানা প্রয়োজন। এছাড়াও আরো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়ার জন্য, গুলির নির্দেশদাতাদের বের করার জন্য তাকে দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হোক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানিতে ব্যরিস্টার মামুন বলেন, শিরীন শারমিন নিজে পদত্যাগ করেছেন তখন। এছাড়া আর কেউ পদত্যাগপত্র জমা দেননি। এজন্য উনি সবার মত না। তাকে এজাহারে ৩ নং আসামি দেখানো ছাড়া আর কোনো তথ্য কিন্তু অভিযোগে নেই। মামলায় ২৪ এর ১৮ জুলাইয়ের ঘটনা দেখিয়েছে। কিন্ত মামলা করেছে ২৫ এর মে মাসের ২৫ তারিখ। অর্থাৎ ১০মাস ৭ দিন পরে মামলা করেছে। উনি একজন আইনজীবীর পাশাপাশি ক্লিন ইমেজের মানুষ। এছাড়াও তিনি একজন নারী। এই বিবেচনায় তার রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ এর ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের (ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ) পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। এতে মো. আশরাফুল (ওরফে ফাহিম) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ওই ঘটনায় ২৫ সালের ২৫ মে ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ, শিরীন শারমিনসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন।
মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই মামলার সহিংস ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোন ডিবির উপ-পরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন বলেন, আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তাকে জেল হাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন।